Logo
প্রিন্টের তারিখ: 30 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 31, 2026

সংবাদ শিরোনাম : যবিপ্রবির অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খানের ন্যানো ইউরিয়া উদ্ভাবনের পেটেন্ট লাভ

যবিপ্রবির অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খানের ন্যানো ইউরিয়া উদ্ভাবনের পেটেন্ট লাভ


​নিজস্ব প্রতিবেদক:

দীর্ঘ পাঁচ বছর দুই মাসের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পরিবেশবান্ধব ‘ন্যানো ইউরিয়া’ সার উদ্ভাবনের পেটেন্ট অনুমোদন পেয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ন্যানোটেকনোলজি গবেষক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান। রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিস এই পেটেন্ট অনুমোদন করে। দেশের কৃষি খাতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির বিকাশে এই অর্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

​দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান

​অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্টের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ফাইলটি ঝুলে থাকার পর বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সরাসরি দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় পেটেন্ট অনুমোদনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ পায়।

​পেটেন্ট পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় উদ্ভাবক অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান বলেন, “দেশের মাটি, কৃষি এবং কৃষকের স্বার্থকে সামনে রেখেই আমরা কাজ করছি। ন্যানো ইউরিয়া কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে সারের ব্যবহারদক্ষতা বৃদ্ধি, অপচয় হ্রাস, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ফসলের ফলন বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত সারের চাপ কমানো সম্ভব।”

​কৃষি খাতে বিপ্লবের সম্ভাবনা

​যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর এই অর্জনে যবিপ্রবি পরিবারসহ সমগ্র জাতির জন্য গৌরব প্রকাশ করে বলেন, “প্রচলিত ইউরিয়া সারের তুলনায় সাশ্রয়ী মূল্যে সমান পুষ্টি নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই প্রযুক্তি কৃষকদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ কমিয়ে আনবে। পাশাপাশি এটি সরকারের কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং ইউরিয়া আমদানির নির্ভরতা কমাতে অনন্য ভূমিকা রাখবে।”

​উল্লেখ্য, ২০১৩ সাল থেকে যবিপ্রবির নিজস্ব ‘ন্যানো-বায়ো অ্যান্ড অ্যাডভান্সড মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং (ন্যাম)’ ল্যাবে এই গবেষণা চালিয়ে আসছেন ড. জাভেদ হোসেন খান। এর আগে ২০২৫ সালে তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো নির্বাচিত হন।

​সংশ্লিষ্টদের মতে, পেটেন্ট পাওয়ার ফলে এখন প্রযুক্তিটির বাণিজ্যিক উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মাঠপর্যায়ে এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের কৃষি অর্থনীতিকে আরও সুদৃঢ় করার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।

বাস্তব কন্ঠ
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF