নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌতে গাড়ি পার্কিং নিয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মার্চেন্ট নেভির সাবেক এক কর্মকর্তার এলোপাতাড়ি গুলিতে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তসহ মোট আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লক্ষ্ণৌর সাদাতগঞ্জ এলাকার একটি ফাঁকা জায়গায় গাড়ি পার্কিংকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে মার্চেন্ট নেভির সাবেক নেভিগেশন কর্মকর্তা ৩০ বছর বয়সী শুক্লা নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর প্রকাশ্যে গুলি চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত শুক্লা প্রথমে পরপর দুটি গুলি ছোড়েন। এরপর পিস্তলে পুনরায় গুলি ভরে আরও তিন রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেন। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাকে ইট দিয়ে মেরেছে, তাই আমি গুলি চালিয়েছি।’
এই হামলায় ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন শিবাজি তিওয়ারি (৬২), শিবেন্দ্র তিওয়ারি (৫৫) এবং সুয়াশ তিওয়ারি (৩০)। পরে তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত কিং জর্জ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের পদক্ষেপ ও গ্রেফতার:
ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত শুক্লাকে আটক করে এবং পরবর্তীতে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখায়। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তল এবং চারটি গুলির খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত শিবেন্দ্র তিওয়ারির স্ত্রী রুচি তিওয়ারির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সাদাতগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। হত্যা ও দাঙ্গা সৃষ্টির অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় মূল অভিযুক্ত শুক্লাসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মঙ্গলবার সাদাতগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সন্তোষ কুমার আর্য এবং কাশ্মীরি মহল্লা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অজয় কুমার চৌরাসিয়াকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়। লক্ষ্ণৌ পুলিশ কমিশনার তরুণ গাউবা ঘটনার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে এই নির্দেশ দেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন লক্ষ্ণৌতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) জেলা পর্যায়ের পদাধিকারী ছিলেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় বিজেপি নেতা এবং আরএসএসের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান এবং দোষীদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। বর্তমানে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে।