নিজস্ব প্রতিবেদক:
গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে আগামীকাল রবিবার মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত হওয়ায় শ্রমিকদের আর আন্দোলনে থাকার কোনো কারণ নেই বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, গত শুক্রবার শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার আলোচনার পর মজুরি বোর্ড গঠনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারাও এই দাবি মেনে নিয়েছেন এবং বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধিও দেওয়া হয়েছে। ফলে এই বিষয়ে আর কোনো মতবিরোধ বা বিরোধ থাকার সুযোগ নেই।
শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে তিনি বলেন, মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী ৭ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে কারখানা বন্ধ থাকলে উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হবে। ক্রেতাদের সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারলে মালিকরা অর্থ পাবেন না, যা শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের বেতন পরিশোধেই সমস্যা তৈরি করবে।
আন্দোলন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ড গঠন ও বকেয়া বেতন পরিশোধের ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই এখন আর ভাঙচুর বা কারখানা বন্ধ রাখার প্রয়োজন নেই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কিছু কারখানায় শ্রমিকরা কাজ করলেও বাইরে থেকে লোক এসে তাদের উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে। কারা প্রকৃত শ্রমিক এবং কারা আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে—গণমাধ্যমকে তা ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
গার্মেন্টস শিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সরকার ও মালিকপক্ষ ইতোমধ্যে শ্রমিকদের দাবি পূরণে পদক্ষেপ নিয়েছে। এ অবস্থায় মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারের সঞ্চালনায় ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ-র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বিজিএমইএ-র সহসভাপতি মিজানুর রহমান, রেজওয়ান সেলিমসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা।