নিজস্ব প্রতিবেদক | ঝিনাইদহ
সরকারি কাজের অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে আটক সাংবাদিক অরিত্র কুন্ডু ও তাঁর সহযোগীকে এক দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। তবে চাঁদাবাজির মতো সাধারণ মামলায় বিচারাধীন একজন পেশাদার সাংবাদিককে ফাঁসির আসামিদের জন্য নির্ধারিত ‘কনডেম সেলে’ আটকে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহ কারাগার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক গোলাম নবী এক দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের এ নির্দেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও আইনজীবী রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন; তবে আদালত জামিন না দিয়ে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি প্রদান করেন। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশে অরিত্রর জব্দকৃত মোবাইলের পাসওয়ার্ড পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, কারা বিধি লঙ্ঘন করে অরিত্রকে কনডেম সেলে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝিনাইদহের জেল সুপার মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান। তিনি জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে এবং অন্য বন্দীদের সাথে থাকলে ক্ষতির আশঙ্কায় তাঁকে কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। তবে আইনজীবীরা মনে করছেন, ফাঁসির আসামিদের জন্য নির্ধারিত সেলে একজন সাংবাদিককে রাখা আইনবহির্ভূত এবং নিপীড়নমূলক।
অন্যদিকে, ঘটনার প্রবাহ এখানেই থেমে নেই। বৃহস্পতিবার স্থানীয় এক প্রভাবশালী ঠিকাদারের অভিযোগে অরিত্রর বিরুদ্ধে থানায় আরও একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত বিচারহীনতার শামিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর বলেন, "ঝিনাইদহের স্থানীয় সাংবাদিকদের এ বিষয়ে মুখ না খুলতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক চক্রের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। আমরা আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা সাজানো হলে সাংবাদিক সমাজ তা মেনে নেবে না।"
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড