অনলাইন ডেস্ক:
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে শিল্পাঞ্চল গাজীপুর, সাভারের আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে পোশাকশ্রমিকদের সহিংস বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলন চলাকালে কয়েকটি স্থানে পুলিশের সাথে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
আজ (০২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাভারের আশুলিয়ার নরসিংহপুর ও জিরাবো এলাকায় শ্রমিকরা বিক্ষোভে নামলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের সূচনা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের ফলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে বেলা সোয়া ১১টার দিকে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
একই সময়ে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকাতেও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ৯টার দিকে পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় পুলিশ ও বিজিবির সাথে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় এক বিজিবি সদস্য আহত হন। এরপর বেলা পৌনে ১২টার দিকে নাওজোর এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের তিনটি গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন দেয় উত্তেজিত শ্রমিকরা। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের দুই সংবাদকর্মীও হামলার শিকার হন। এছাড়া সফিপুর ও টঙ্গীসহ ঢাকা-টাঙ্গাইল এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবরোধ সৃষ্টি করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জেও সড়ক অবরোধ করে বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন শ্রমিকেরা।
শিল্পাঞ্চলের এই অস্থিরতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যেসব সাবেক এমপি-মন্ত্রী পোশাক কারখানাগুলোর মালিক, তারা এই খাতে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র করছেন। ইতোমধ্যে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, দেশকে অস্থিতিশীল করতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলটি অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রাখা হয়েছে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড