ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলার মনপুরায় মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালে টাকার বিনিময়ে মেঘনা নদীতে অঘোষিতভাবে মাছ শিকারের সুযোগ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা এবং স্থানীয় যুবদল নেতা ও মৎস্য ব্যবসায়ী আবদুর রহিমের মধ্যে ঘুষ লেনদেনসংক্রান্ত একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় (ভাইরাল) জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া অডিও রেকর্ডে সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখাকে যুবদল নেতা রহিমকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, “রহিম ভাই, শোনেন, একটা প্যাঁচ দিয়ে থুইয়া গেছেন। আমি না পারি অভিযান করতে। আমার ওপর থেকে চাপ আসতেছে। বাকি টাকা মাগরিবের আগে পাঠাই দিয়েন, না দিলে সব বোটে আগুন জ্বালাই দিমু।”
এর জবাবে মৎস্য ব্যবসায়ী রহিম বলেন, “যা করেন করেন, ফরটি ফাইভ (৪৫ হাজার) দিছি। এর মধ্যে যেভাবে হোক আপনি আমাকে সেভ কইরেন।” এরপর কাজল রেখাকে আফসোস করে বলতে শোনা যায়, “আমারে তো চা খাওয়ার জন্যও দেন নাই। চা খাওয়ার টাকা দিলেও তো খুশি হতাম।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা সাগরে মাছ ধরার প্রায় দুই শতাধিক ট্রলারের প্রতিটির কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে নিয়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইলিশ শিকারের অঘোষিত অনুমতি দেন। এই বিশাল অঙ্কের টাকা আদায় ও তিন ভাগে ভাগবাটোয়ারার দায়িত্ব পালন করেন অডিওতে নাম আসা যুবদল নেতা আবদুর রহিম।
এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছালাউদ্দিন প্রিন্স। তিনি লেখেন, “এই হলো গরিবের পেটে লাথি মারার অবরোধ, সবকিছু ভাগবাটোয়ারার খেলা।”
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হাফেজ আবদুর রহিমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মোল্লা জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং সত্যতা যাচাই করে প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ঘুষের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা অডিওর বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার না করে দাবি করেন, এটি অনেক আগের একটি ফোনালাপ।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা ও জেলা প্রশাসন। মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খান সালমান হাবিব এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন পৃথকভাবে জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। অডিও রেকর্ডটি খতিয়ে দেখে ও তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড